ভাঙা সেতুর গান
- সুবীর সরকার
১।
তুলো ও ব্যান্ডেজ জড়িয়ে বসে আছি
চারপাশে হাঙর কুমির
শহরের পথে পথে এমন লাল রঙের
জামা!
স্বাগতভাষণ শেষ না হতেই সবুজ
বাতি
বড়জোর ছবিটা উলটে দিতে পারো
২।
স্বপ্ন যদি শিরোনাম হয়
তবে তো জলহাওয়ার ভিতর বাজতে থাকবে
আজব সংকেত
সিঁড়ি নেই। সরণি নেই।
তবুও উত্তেজিত হই
আর পৃথিবীতে বিকেল নামে
৩।
আপনি পাখি আঁকছেন আর আমি কুড়িয়ে
আনছি
ভাঙা বাসা।
শ্যাওলার সবুজ নিয়ে আপাতত কিছু বলবো
না
টোটোচালকদের জন্য বরং আইসক্রিম চলে
আসুক
বেশ দেখতে পারছি,
গিটারে হাত রাখছেন তরুণ কবি!
কে নিয়ে আসবে আমাদের জন্য নতুন
গল্প
৪।
অপেক্ষায় আছে দীর্ঘ জীবন!
আঙুল তুলে কথা বলছো আর ছিমছাম এক
ডিনারটেবিল
আর চুরি হয়ে যাওয়া ঘড়ির শোক
পালংশাকের খেত ডেকে নিয়ে
যায়
সমস্ত ভাঙা সেতুর পাশে বিকেল
নামছে
৫।
বরং মেঝেতে ঢেলে দাও কলসির
পানি
এত এত খোলা মাঠ!
জলে ভেসে যাওয়া সুপুরির খোল
শহর ভরিয়ে দেব নিসর্গদৃশ্যে
তপ্ত দুপুরের সব পাখিরা
হেরে যাওয়া মানুষও জানে পরাজয়ের
সার্থকতা
বারবার চুরি হয়ে যায় আমাদের
জুতো
আঙুলে মোম মেখে তুমি তখন কাঁচের
দেয়াল
৬।
পানশালার ভিতর ছড়িয়ে দিতে থাকি
গল্পগুজব
সাদাবর্ণের টি-শার্ট
ছবি আঁকার স্কুল
শীতের কামড় মনে রাখছে না
কেউ!
বিকেলমেঘের মায়া।
গান ঢুকে পড়ছে ঘরবাড়ির
ভেতর
সিগনালে আটকে থাকা গাড়ি
সমস্ত ডুবে যাওয়া শহরে আজ আমি জলযান
ভাসাবো
৭।
বাদাম ভাঙছো আঙুলের চাপে
নখের প্রহার জানি
জানি, গেরিলা যুদ্ধের ভয়ে লুকিয়ে থাকা
বাঘ
পুরোন ছবি থেকে নেমে আসা বন্দুক।শিকার
ও
শিকারি_
৮।
চারপাশে সাইরেন, ঘোলা জলস্রোত
দূরে কোথাও গান বাজে_
‘ও রে রাজার হস্তিক পার করিছুং
রে’
শহরে বর্ষা। অন্ধকার সিঁড়ি বেয়ে উপরে ওঠা
বাঘের গুহায় গিয়ে তার শাবক চুরি করে
আনি
৯।
খুঁড়িয়ে চলা শহরসুন্দরী!
বিষন্ন সন্ধ্যের গল্প বলে আর বোকা বানানো
যাবে না!
ঘড়িগুলো ঘোড়ার পিঠে
ফাঁকা ফাঁকা রাস্তা,বেজে উঠছে
স্মার্টফোন
আর শীতটুপি উড়ে যাচ্ছে বিষন্নতার
দিকে
১০।
তবে কি দীঘির জলে লুকিয়ে থাকবো হাজার
বছর!
বিশ্বাসভঙ্গ আসলে তো একধরনের
নীরবতা
ঘনঘন টাট্টুঘোড়া, কচুরপাতায় জল
জং ধরা ট্রিগার
বিকেলের শেয়ালেরা
শান্তি ফিরিয়ে আনতে গিয়ে দেখি
বড় রাস্তায় মিশে যাওয়া
গলিগুলি
কত কত জল ছিল
হাওড়ে মিশে যাওয়া হাসি
১১।
জীবন কেটে গেল আস্ত এক অ্যাসাইলামের
ভিতর
গুলির শব্দ, কেশর ফোলানো ঘোড়া
হাহাকার জাগা পাথারবাড়ি
পলায়ন নেই, দুপুররৌদ্র আছে
কি করে বল সংলাপহীন থাকি!
বিতর্ক তাড়া করবে সারাজীবন
বড়জোর সংলাপ ভুলে যাবো
সুপুরিবাগান থেকে কুড়িয়ে আনবো
ঢেকিশাক
আঙুলে জ্যোৎস্না। আর
জল ও জঙ্গল চিরস্থায়ী
১২।
ইদানিং পাতলা হয়ে আসা ঘুম
আমাদের কাঁধের উপর মৃতের
কফিন
মাটি থেকে অনেক উঁচুতে ঝুলন্ত
সেতু।ফণাতোলা সাপ।
মাছ ধরছেন পাখিশিকারি
ভরা নদীর জলে যাবতীয়
গামবুট
e-mail: subirsarkar25@gmail.com

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন